বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ August ২০২০

গাজীপুর জেলা

গাজীপুর জেলা :

ক) ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য  পর্যটন পণ্য :
পর্যটন আকর্ষণ :
১. ভাওয়াল রাজার বাড়ি ও দীঘি :
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে প্রায় ৫ কি.মি.  পুর্ব দিকে পীরবাড়ি নামক স্থানে এর অবস্থান। এর অপর নাম  সন্নাসী রাজার বাড়ি । চারপাশে দেয়াল দিয়ে ঘেরা ভেতরে রাজবাড়ি ভবন এবং শানবাধান একটি বড় পুকুর আছে। বিশাল আকারের এ ভবনে  ৩৬০ টি কোঠা রয়েছে।   
২. স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর সৈনিকদের স্মরণে  স্মৃতিসৌধ :
গাজীপুর শহরের প্রবেশমূখে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য “জাগ্রত চৌরঙ্গী”। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে শহীদ হুরমত আলীসহ অন্যান্য শহীদদের স্মরণে ১৯৭১ সালেই নির্মিত হয় হয় এ ভাস্কর্যটি। এর স্থপতি আব্দুর রাজ্জাক। ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় একশো ফুট। আর এর দু “পাশে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১ নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা আছে। 
৩. সোনাভানের মাজার :
টঙ্গী বাজার সংলগ্ন স্থানে সোনাভানে মাজার অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে সোনাভান খুব শক্তিশালী ও পরক্রমাশালী মহিলা ছিলেন। এখানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক পরিদর্শনে আসেন। কিংবদন্তী সোনভান একসময় পুঁথির আসরের সেরা আকর্ষণ ছিল।

খ)  ধর্মীয় :
পর্যটন আকর্ষণ :
১. বিশ্ব ইজতিমা :
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ কর্তৃক আয়েজিত অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতিমা।  প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে তুরাগ নদীর তীরে  টঙ্গীর প্রায় ৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।  ইজতেমা বিশ্বের নানা  প্রান্তের মুসলমানদের  মধ্যে পারস্পারিক ঐক্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যরে এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র, যা ইসলামী সমাজ , শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও মহানুভবতার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। এ ইজতেমায় ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, মিশর, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, চীন, জাপান ,কেনিয়া, তুরস্কসহ প্রায় ৭০ টি দেশ এবং বাংলাদেশের মুসলমানসহ  লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
২. কালী মন্দির :
জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে কালিমন্দির অবস্থিত। এখানে অগনিত হিন্দু ধর্মাবলম্বী  পূজা করতে আসেন। এছাড়াও অনেক পর্যটকও এখানে এসে থাকেন।
৩. সাধু নিকোলাসের গির্জা :
কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী গ্রামে সাধু নিকোলাসের গির্জাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬৩ সালে। অধুনা পুরনো গির্জার পাশেই বড়সড় আরেকটি গির্জা নির্মিত হয়েছে। গির্জার সামনে রয়েছে আট ফুট লম্বা যিশুখ্রিস্টের মূর্তি। ১৮ একর জায়গা নিয়ে তৈরি গির্জা প্রাঙ্গণে আছে বাগান, ফাদারের বাসস্থান, মা মেরির গর্ভগৃহ, সাধু নিকোলাস স্কুল, ছাত্রদের হোস্টেল, ব্রাদার্স হাউস ও সরকারি দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


গ) সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক : 
পর্যটন আকর্ষণ :
১. ধান গবেষণা কেন্দ্র :
উন্নত বৈশিষ্ট্যের ধানের জাত ও  বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে তাদের ব্যবস্থাপনা-প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা পরিচালনার জন্য ১৯৭০ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে  ধান গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।  বর্তমানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত বেশ কিছু আধুনিক জাতের ধান ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, ভিতেনামসহ বেশ কিছু দেশে  ব্যাপক  হারে চাষ করা হয়। 
২. কৃষি গবেষণা কেন্দ্র :
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি গবেষণা কেন্দ্র  ষাটের দশকে  গাজীপুরের জয়দেবপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়।  এখানে ধান, পাট, ইক্ষু ও চা ব্যতীত সকল শস্যের উপর গবেষণার দায়িত্ব রয়েছে।  এ ইনস্টিটিউট দেশের গম, আলু, সরিষা ও শাকসবজি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

ঘ) বিনোদনমূলক :  
পর্যটন আকর্ষণ :
১২. ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান :
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ৬,৪৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে এ উদ্যান অবস্থিত। গোটা বন গাছে ঢাকা। প্রধান গাছ শাল। এছাড়া রযেছে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির তাল, ১০৫ প্রকার ঔষধি, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ, ৬০ প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ। 
২.শালনা উদ্যান :
জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ৮ কি.মি উত্তরে ময়মনসিংহগামী সড়কের পাশে শালনা বনভোজন কেন্দ্র।  চারদিকে কাটাতারের বেড়া ও শালবনে ঢাকা। শহর থেকে বেশ দূর। তাই সব সময়ই সুশীতল ও পাখির কূজনে মুখরিত।
৩.চন্দ্রা পিকনিক স্পট :
শালনা থেকে টাঙ্গাইলগামী সড়কে  আর কিছু দূর এগিয়ে গেলে কালিয়াকৈর উপজেলায় চন্দ্রা বনভোজন কেন্দ্র। 
৪. আনসার একাডেমী :
গাজীপুরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ সখিপুর আনসার একাডেমী। আনসার একাডেমীর অন্যতম আকর্ষণ কৃত্রিম জলপ্রপাত, গোলঘর, টিলা, লেক এবং লেকের উপর বিনোদন সিঁড়ি।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                

ঙ) নৌ-পর্যটন  :
পর্যটন আকর্ষণ :
১. তুরাগনদীতে নৌ-ভ্রমণ :
তুরাগ নদীতে সারা বছরই নৌ-ভ্রমন করা যায়। তুরাগ নদীর অপরূপ সৌন্দর্য গাজীপুরের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।  

চ). প্রাকৃতিক :
পর্যটন আকর্ষণ :
১. বনাঞ্চল (শ্রীপুর) :
শ্রীপুরের বনাঞ্চল গাজীপুরের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এখানে নানা ধরণের বৃক্ষরাজি গুল্ম, লতা, পাতা ও বিভিন্ন ধরণের পশু-পাখি রয়েছে যা সত্যিই আকর্ষণীয়।

 


Share with :

Facebook Facebook