বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st মার্চ ২০২০

রংপুর জেলা

ক) ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শন

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

তাজহাট জমিদার বাড়িঃ

রংপুর জেলায় যে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে তন্মধ্যে তাজহাট জমিদার বাড়ি অন্যতম। শহর থেকে ৬কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণে রংপুর মাহিগঞ্জ সাতমাথা হতে ২কিঃমিঃ দক্ষিণে তাজহাট নামক স্থানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই তাজহাট জমিদার বাড়ি। চারকোণে চারটি পুকুর সামনে বিস্তৃত মাঠ, চারিদিকে সবুজের সমারোহ বাড়ির আর্কষণ আরও বৃদ্ধি করেছে। মূল দ্বিতল ভবনটির আকৃতি ইংরেজী ইউ অক্ষরের ন্যায়। দ্বিতলে উঠার জন্য বিরাট গ্যালারীর ন্যায় তিন ধাপ বিশিষ্ট উন্নত পাথরে মোড়ানো সিঁড়ি আছে। বিশাল প্রাসাদটিতে মোট ২৮টি কক্ষ রয়েছে। প্রধান কক্ষটির পরিমাপ ১৪৫ বর্গ ফুট। প্রধান প্রাসাদের ছাদের মধ্যভাগে গম্বুজ বিশিষ্ঠ অষ্টকোণাকৃতির একটি ছোট কক্ষ রয়েছে যা রাজরানীদের প্রমোদ কক্ষ হিসেবে ব্যবহƒত হতো। প্রাসাদের উত্তর দক্ষিণ কোণে দুইটি উঁচু লম্বা পিলারের মাথায় সাপের ফনার ন্যায় সুশোভিত করা হয়েছে যা দুর থেকে আকষর্ণ করে। প্রাসাদের প্রতিটি কাজই পৃথক কারুকার্য মন্ডিত। যার কোনটি মোগল স্থাপত্য কলার ন্যায় আবার কোনটি রোমান স্থাপত্য কলার অনুকরণে তৈরী বলে মনে হয়। সৌন্দর্যমন্ডিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রাসাদটি দেখার জন্য প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

ইটাকুমারীর জমিদার বাড়িঃ

পীরগাছা থানা হেড কোয়াটার থেকে ৮ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত, ১৭৮৩ সালে রংপুরের প্রজা বিদ্রোহের অমর সাক্ষী  এই জমিদার বাড়ি। তিনআনা ফতেহপুরের অধিকারী জমিদার শিবচন্দ্র  বৌদ্ধ, হিন্দু মোগল ও আধুনিক স্থাপত্য রীতিতে এই বাড়ি নির্মাণ করেন । সবুজের সমারোহে নৈসর্গিক পরিবেশের মাঝে একশত বিঘা জমির উপর এ বাড়ি অবস্থিত। এ বাড়ির চারিপার্শ্বে রয়েছে পাঁচটি বৃহৎ দীঘি। শিবচন্দ্র রায় ও দেবী চৌধুরাণীর নির্দেশে ইটাকুমারী সম্মেলন থেকে ১৭৮৩ সালে প্রজা বিদ্রোহ শুরু হয়।

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

বেগম রোকেয়ার পৈত্রিক বাড়িঃ

উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া। জমিদার নন্দিনী মহিয়সী এই নারীর জন্ম স্থান ও বাল্যস্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি পায়রাবন্দ নামক স্থানে অবস্থিত। রংপুর শহর থেকে ১২ কিঃমিঃ দক্ষিণে মিঠাপুকুর উপজেলায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক থেকে ৪ কিঃমিঃ পূর্ব দিকে এই জমিদার বাড়ি অবস্থিত। তাঁর পিতা জহিরুদ্দিন আবু আলী চৌধুরী সাহেব তৎকালীন পায়রাবন্দ পরগনার জমিদার ছিলেন। বেগম রোকেয়ার স্মরনে এখানে স্মৃতি কমপ্লেক্স, মেমোরিয়ার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন বহু পর্যটক তাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটি দেখার জন্য এখানে বেড়াতে আসেন।  প্রতি বৎসর ৯ই ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিন ব্যাপি এক মেলা বসে।

খ) ধর্মীয়

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

শাহ ইসমাঈল গাজীর দরগাহঃ

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে ৮ কিঃমিঃ দক্ষিণ পশ্চিমে কান্তদুয়ারে দরগাহ অবস্থান। বর্তমানে প্রায় নতুন করে পুনঃনির্মান করা হয়েছে। সমাধিটি ৫/৬ মিটার উচুঁ একটি প্রাচীন ঢিবির উপরে নির্মিত। দক্ষিণ দিকে সন্মুখভাগে অবস্থিত একমাত্র প্রবেশ পথ দিয়ে এ সমাধিতে প্রবেশ করা যায়। ইসমাইল গাজী সর্ম্পকে জানা যায় যে, ১৪৭৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বারবক শাহ সেনাপতি ভাঁদসী রায় এর বিদ্বেষপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে শাহ ইসমাইল গাজীর  শিরচ্ছেদ আদেশ দেন। নিহত শাহ ইসমাইল গাজীকে এখানে সমাহিত করা হয়। 

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

কাজিটারী মসজিদঃ

মাহিগঞ্জবাজারের কাজিটারী মহল¬ায় তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে তিনটি এবং  উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে প্রবেশ পথ রয়েছে। চারকোণায় চারটি বুরুজ ছাদের উপর উঠে গেছে। এগুলো আটকোণাকৃতির এবং ছোট গম্বুজ দ্বারা আবৃত। মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অবতর আকৃতির মিহরাব আছে। এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর  মোগল স্থাাপত্যকীর্তি বলে মনে করা হয়।

মিঠাপুকুর মসজিদ

মিঠাপুকুর সদর উপজেলা থেকে অর্ধ কিঃমিঃ উত্তর-পশ্চিমে রংপুর-মিঠাপুকুর সড়কের পাশে এ মসজিদ অবস্থিত। আয়তাকার তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের  পরিমাপ ১০.৬৬ ী ৪.১১ মিটার। মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায় জনৈক শেখ মোহাম্মদ সাবেরের পুত্র শেখ মোহাম্মদ আছের ১৮১০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বাংলার নিজস্ব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের  দোচালা পদ্ধতিতে নির্মিত অপূর্ব প্রবেশ তোরণ ও মসজিদের চার কোণে চারটি টাওয়ার যা ছাদের কিনারা থেকে বেশ ওপরে উঠে ছোট গম্বুজের মতো কিউপোলা  আকারে শেষ হয়েছে। তিনটি মিহরাব মসজিদের সম্মুখের দেয়াল, প্যারাপেট দেয়াল ও গম্বুজসমূহ, লতাপাতা, ফুল, জ্যামিতিক নক্সা ও সাপের ফনাসদৃশ্য নক্সা দ্বারা অলংকৃত।

গ) সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

কারমাইকেল কলেজ :

বাংলার বড় লাট লর্ড কারমাইকেল এর নামানুসারে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রংপুরের কয়েকজন নেতৃস্থানীয় জমিদার এর প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৩২১ একরেরও বেশী জমির উপর কলেজ ভবনটির প্রাথমিক নির্মাণ কাজের জন্য তারা সাড়ে সাত লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। ড. ওয়াটন্সি নামীয় এক জার্মান নাগরিক এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। ৬১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত কলেজ ভবনটি বাংলার জমিদারি স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন, যা বাংলার আভিজাত্যের সাথে মোঘল স্থাপত্যকলার সম্পর্কের পরিচয় বহন করে। ভারত বিভক্তির পর ১৯৫৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায়র পূর্ব পর্যন্ত এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতাভুক্ত। বর্তমানে এটি স্নাতকোত্তর কলেজ। এখানে মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদসমূহে ১৪টি বিষয় পড়ানো হয়।

বেনারসী পল্লী:

রংপুর শহর থেকে ৮কিঃমিঃ উত্তর দিকে বেনারসী পল্লী অবস্থিত। এই পল্লীতে ৬৬৬ টি তাঁত রয়েছে। এখানে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্টরীগুলির মধ্যে মেসার্স উইভিং ফ্যাক্টরী সর্ববৃহৎ। বেনারসী শাড়ী তৈরীর সুতা চায়না থেকে আমদানী করা হয়। এখানে উৎপাদিত উৎকৃষ্টমানের শাড়ী ঢাকার মিরপুরসহ সারাদেশে বিক্রয় হয়। বেনারসী পল¬ীতে উৎপাদিত শাড়ী তৈরী দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন।

নিসবেতগঞ্জের শতরঞ্জি শিল্পঃ

নিসবেতগঞ্জ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এ স্থানটি শতরঞ্জির জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলে শতরঞ্জি শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে। এক সময় ভারত, সিংহল, বার্মা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশে প্রতিবছর এখান থেকে প্রচুর শতরঞ্জি রপ্তানী হতো। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন এখানে শতরঞ্জি বুননের জন্য শতরঞ্জি প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করে। সারা বছর প্রচুর দেশী বিদেশী দর্শনার্থী এখানে আসেন।

ঘ) বিনোদনমূলক

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

ভিন্ন জগৎঃ

রংপুর অঞ্চলের শিশু কিশোরসহ সকলের সুস্থ্য পরিবেশে বিনোদন জন্য ‘ভিন্ন জগৎ লিঃ’ নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র আছে। রংপুর শহর থেকে ১৮ কিঃমিঃ দুরে পাগলাপীরের উত্তরে গঞ্জিপুর গ্রামে এর অবস্থান। বিরাট এলাকা জুড়ে এর বিস্তৃতি। এখানে রয়েছে বাগান, সবুজ বন, অডেটরিয়াম, শপিং মল, কনফারেন্স ভবন, কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিংপুল, শিমুকানন কৃত্রিম লেক প্রভৃতি। বাগানের আকর্ষণ বিরল প্রজাতির কিছু গাছগাছালির মাঝে নানান জাতের পাখির সমারোহ। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানান খেলার উপকরন। কৃত্রিম লেকে মাছধরা ও নৌভ্রমনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বপোরি বিভিন্ন ভবনগুলিতে ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করার সাথে সাথে বাগানের গাছগাছালিগুলি কেটেছেঁটে নানান ধরনের আকৃতি দেয়ায় তা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

 

ঙ) প্রাকৃতিক

পর্যটন আকর্ষণের নাম ও বর্ণনা

চিকলির বিল :

রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চিকলির বিল এলাকার আয়তন ৯১.৯৭ একর।

ধুমনদীর তীরে :

কাউনিয়া উপজেলাধীন হারাগাছা পৌরসভার অন্তরগত ধুমের কুঠি ইউনিয়নে ধুম নদীর তীরের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন বহু দর্শণার্থী আগমন করেন।


Share with :

Facebook Facebook